ফান্ডের ঝুঁকির মূল্যায়ন এবং আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করুন রিস্কোমিটার, রইল বিস্তারিত

কিভাবে রিস্কোমিটার ব্যবহার করবেন ?ফান্ডের ঝুঁকির মূল্যায়ন এবং আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতাই বা বুঝবেন কিভাবে?

1
107
ফান্ডের ঝুঁকির মূল্যায়ন এবং আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করুন রিস্কোমিটার, রইল বিস্তারিত
ফান্ডের ঝুঁকির মূল্যায়ন এবং আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বুঝে নেওয়ার জন্য ব্যবহার করুন রিস্কোমিটার, রইল বিস্তারিত

বিগত বেশকিছু সময় ধরেই আমাদের দেশের বাজারে মানুষের মধ্যে মিউচুয়াল ফান্ডে ইনভেস্টমেন্ট এর প্রবণতা কয়েকগুণ বেড়ে গিয়েছে। যদি আপনিও এই সমস্ত মানুষদের তালিকায় থাকেন তাহলে আজকের প্রতিবেদনটি মিস না করার অনুরোধ রইল। ব্যাংক এবং পোস্ট অফিস ছাড়া যে কোন ধরনের বিনিয়োগকেই ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা থাকে । তাই সম্প্রতি এই ঝুকির মূল্যায়ন করতে নিয়ে আসা হলো এক বিশেষ ধরনের সুবিধা ।সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ বোর্ড অব ইন্ডিয়া (SEBI) বেশ কিছু উপায় বার করেছে, যার মধ্যে ‘রিস্কোমিটার’ অন্যতম। গাড়ির ক্ষেত্রে যেমন স্পিডোমিটার যন্ত্র কাজ করে এখানেও তেমনি ভাবেই এটি কাজ করবে। চলুন একটু বিশদে জেনে নেওয়া যাক।

1) কম ঝুঁকি (Low risk ):

লো রিস্ক এর কোনও ফান্ডে বিনিয়োগ করলে বিনিয়োগকারী আশা করতে পারেন, বিনিয়োগে খুব কমই ঝুঁকি আছে। এই শ্রেণির ফান্ড সেই সব বিনিয়োগকারীর জন্য আদর্শ, যাঁরা ন্যূনতম ঝুঁকি নিতে চান। তাই মধ্যবিত্ত ব্যক্তিরা খুব সহজেই এগিয়ে আসতে পারেন।

২) কম থেকে মাঝারি ঝুঁকি (Low to moderate risk):

যাঁরা ‘লো টু মডারেট রিস্ক’ শ্রেণিভুক্ত ফান্ডে বিনিয়োগ করেন, তাঁরা আশা করতে পারেন, বিনিয়োগ নিয়ে ঝুঁকির পরিমাণ বেশ কম। রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের জন্য এটি আদর্শ। তবে অবশ্যই আপনাকে সব দিক খেয়াল রেখে চলতে হবে।

৩) মাঝারি ঝুঁকি (Moderate Risk):

এটি আংশিক রক্ষণশীল বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ। এই ফান্ড তাঁদের জন্য, যাঁরা সীমিত পরিমাণে ঝুঁকি নিয়ে সম্পদ গড়তে চান।

৪) মাঝারি থেকে বেশি ঝুঁকি (Moderately high risk):

এই শ্রেণিভুক্ত ফান্ডগুলোতে শেয়ার বাজারের ঝুঁকির প্রভাব রয়েছে। আগ্রাসী বিনিয়োগকারী, যাঁরা মাঝারি থেকে দীর্ঘমেয়াদি (৩ বছর+) বিনিয়োগ করতে চান, এই ফান্ড তাঁদের জন্য আদর্শ।

৫) বেশি ঝুঁকি (High risk):

যারা দীর্ঘমেয়াদি (৫ বছর+) বিনিয়োগ করতে চান, এই ধরনের ফান্ড তাঁদের জন্য আদর্শ। এই ফান্ডে বিনিয়োগ খুবই ঝুঁকিপূর্ণ হওয়ার আশঙ্কা থাকে এবং এর উপরে শেয়ার বাজারের অস্থিরতার প্রভাবও পড়তে পারে।

৬) খুব বেশি ঝুঁকি (Very High Risk):

অন্যান্য ফান্ডের তুলনায় এতে খুব বেশি ঝুঁকিপূর্ণ শেয়ারে বিনিয়োগ করা হয়। তাই খুব সাবধানে কাজ এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে।এটা প্রচণ্ড আগ্রাসী বিনিয়োগকারীদের জন্য আদর্শ। দীর্ঘমেয়াদি সম্পদ তৈরির লক্ষ্যে এই ফান্ড।

রিস্ক প্রোফাইলার ব্যবহার করে এক জন বিনিয়োগকারী কী ভাবে তাঁর ব্যক্তিগত ঝুঁকির মূল্যায়ন করবেন? সত্যিই কি এটি লাভদায়ক?

ইনভেসমেন্ট করার জন্য বেশ জনপ্রিয়তা অর্জন করলেও মিউচুয়াল ফান্ডের সাথে কিন্তু বহু সময় ধরে এই নানান রকমের ঝুঁকি জড়িয়ে আছে। রিস্ক প্রোফাইলার বা রিস্কোমিটার দিয়ে এক জন বিনিয়োগকারী তাঁর ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার মূল্যায়ন করতে পারেন। কোনও বিনিয়োগকারীর কতটা ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা আছে, রিস্ক প্রোফাইলার তার একটা আন্দাজ দেয়। ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতার বাইরে গিয়ে বিনিয়োগ ইনভেস্টমেন্ট পোর্টফোলিওর জন্য খুবই বিপজ্জনক হতে পারে। মিউচুয়াল ফান্ড পোর্টফোলিওর বিন্যাস কী হবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষেত্রে সেই ব্যক্তির ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা বা ‘রিস্ক অ্যাপেটাইট’-এর উল্লেখযোগ্য ভূমিকা আছে। বিনিয়োগ করার আগে আপনার রিস্ক প্রোফাইল আপডেট করে নেওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।

Read More: UPI: যদি ভুল একাউন্টে টাকা ট্রান্সফার করে ফেলেন, কিভাবে তা ফেরত পাবেন জেনে নিন!

এতে আপনার সুবিধে তো হবেই, পাশাপাশি আপনার রিস্ক প্রোফাইলের সঙ্গে মানানসই বিনিয়োগের পথ বা ‘ইনভেস্টমেন্ট অ্যাসেট’ বেছে নিয়ে পোর্টফোলিও তৈরির কাজটা আপনার বিনিয়োগ পরামর্শদাতার কাছেও সহজ হয়ে যাবে। কোনও বিনিয়োগকারী যখন কোনও একটি মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করছেন, তখন রিস্কোমিটার সেই স্কিমের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ঝুঁকির মাত্রা পরিমাপ করতে সাহায্য করে। তবে এটা জেনে রাখা দরকার যে, রিস্কোমিটার শুধু আপনাকে সঠিক প্রোডাক্ট বেছে নিতেই সাহায্য করবে না, আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা অনুযায়ী একটা ফান্ড ক্যাটেগরি বেছে নেওয়ার রাস্তায় এটি প্রথম পদক্ষেপ।

এক জন বিনিয়োগকারীর উচিত সংশ্লিষ্ট ফান্ডের ‘রিস্ক’-এর সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা মিলিয়ে দেখা। তাঁর বিনিয়োগ কোন শ্রেণির অন্তর্গত, তা বুঝে নিয়ে, তার পরেই ভবিষ্যতের জন্য দীর্ঘমেয়াদী বিনিয়োগ করা ভাল। নয়তো এই সমস্ত জনপ্রিয় মাধ্যম গুলিতেও কিন্তু বড়সড়ো আর্থিক ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারেন। ফিন্যান্সিয়াল ম্যানেজমেন্ট বা আর্থিক ব্যবস্থাপনার জন্য এই রিস্ক প্রোফাইলার ভীষন গুরুত্বপূর্ণ। সুতরাং এবার থেকে মিউচুয়াল ফান্ডে বিনিয়োগ করার আগে এটির সাহায্য নিতে ভুলবেন না।

Read More: বড়োসড়ো রিটার্ন পেতে চাইলে সময় নষ্ট করবেন না, যুদ্ধের বাজারে আজই কিনে নিন এই ৩ বড়ো শেয়ার!