পাকা চুল তুলে ফেলার পর সেই জায়গা থেকে কি আবারো পাকা চুল গজিয়ে ওঠে? জেনে নিন আসল সত্যি

বয়স বাড়ার সাথে সাথেই পাকা চুল লক্ষ্য করা যায় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে অনেকেরই। অনেকেই এই পাকা চুলগুলি তুলে ফেলেন এবং মনে করেন সেই জায়গায় আর পাকা চুল বেরোবে না! এই ধারণার পেছনে আদৌ কোন সত্যতা আছে কি?

0
165
পাকা চুল তুলে ফেলার পর সেই জায়গা থেকে কি আবারো পাকা চুল গজিয়ে ওঠে? জেনে নিন আসল সত্যি
পাকা চুল তুলে ফেলার পর সেই জায়গা থেকে কি আবারো পাকা চুল গজিয়ে ওঠে? জেনে নিন আসল সত্যি

বয়স ত্রিশের কোঠা পেরোনোর পর থেকেই নারী পুরুষ নির্বিশেষে সকলের মাথাতেই পাকা চুলের রেখা লক্ষ্য করা যায়। কারুর ক্ষেত্রে এই পরিমাণ কম, আবার কারুর ক্ষেত্রে বেশি। বহু মানুষ আছেন যারা লজ্জার কারণে এই পাকা চুল তুলে ফেলেন। আবার অনেকেই এমন রয়েছেন যারা পাকা চুল তুলতে চান না কারণ তারা মনে করেন যে তুলে ফেললে হয়তো সে জায়গায় আরো বেশি করে পাকা চুল বেরোবে। প্রতিবেদনের মূল পর্বে যাওয়ার আগেই আমরা জানিয়ে রাখি এটি একেবারেই ভ্রান্ত ধারণা নয়। হুটহাট পাকা চুল তুলে ফেলা উচিত নয়। কারণ এতে চুলের স্ক্যাল্প ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে এবং আরো অন্যান্য সমস্যা দেখা দিতে পারে। এক সমস্যার সমাধান করতে গিয়ে যদি আপনারা আরও সমস্যা ডেকে আনেন তা মোটেই সুখকর হবেনা বলাই যায়।

আমাদের শরীরে থাকা মেলানিনের উপর নির্ভর করেই চুলের রঙ তৈরি হয়।এই মেলানিন হল চুলের ফলিকলের গোড়ায় থাকা বিশেষ এক ধরনের কোষ, যা রং ধরে রাখতে সাহায্য করে। পাকা চুল তুলে নিলে সেখানে আবার যে নতুন চুলটি গজায়, তার রং সাদা হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, চুলটি ওই পুরনো ফলিকল থেকেই জন্মায়। তাই পাকার জায়গায় কালো চুল গজানোর সম্ভাবনা কম। আবার এমনও হতে পারে যে সেই জায়গায় আর চুল গজালোই না। ফলস্বরূপ পাকা চুল তুলে ফেললে কিন্তু মাথায় টাকের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে যেতে পারে। তাই অবশ্যই এবার থেকে ভেবেচিন্তে এই কাজটি করবেন যাতে হিতে বিপরীত না হয়।।

হেয়ার রেস্টোরেশন সার্জন রবার্ট ডরিন জানাচ্ছেন, যখনই আমরা মাথা থেকে চুল টেনে তুলি বা ভুরু তুলি তখনই চুলের কিছুটা ক্ষতি হয়। চুলের বৃদ্ধির প্যাটার্ন বদলে যায়। ফলে নতুন গজানো চুল আগের থেকে রুক্ষ হতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নতুন চুল নাও গজাতে পারে। সেই কারণেই পাকা চুল তুলতে বারণ করা হয়।
কী বুঝলেন পড়ে? পাকা চুল তুললে চুল আরও পেকে যাবে না ঠিকই তবে চুল উঠে যাক সেটা নিশ্চয়ই চান না? তাই টাক হতে না চাইলে আজই ছাড়ুন এই বদঅভ্যাস। বরং এই বদ অভ্যাসের জায়গায় যাতে অল্প বয়সে চুল না পেকে যায় তার জন্য বেশ কিছু বিষয় আপনারা আগেভাগেই খেয়াল রাখতে পারেন।

১. স্ট্রেস থেকে দূরে থাকুন:

স্ট্রেস চুলের অকাল-পক্কতার প্রধান কারণ। হাসি খুশিতে জীবনটা ভরিয়ে তুলুন। দিনে কয়েকবার লম্বা শ্বাস নিন আর ব্যায়াম করার অভ্যাস গড়ে তুলুন। হাজার ব্যস্ততার মাঝেও নিজের জন্য কিছুটা সময় বের করে নিন।

২. ধূমপান পরিহার করুন:

বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত হয়েছে যে, ধূমপান শরীরের প্রিম্যাচিউর এইজিং (premature ageing)-এর জন্য দায়ী। ধূমপান বন্ধ করলে সার্কুলেশন (circulation) পর্যাপ্ত গতিতে চলে আর চুলের অকাল-পক্কতাও রোধ হয়। তাহলে দেখলেন তো সিগারেট শরীরের ক্ষতি করে, পকেটের-ও ক্ষতি করে।

৩. শরীরের আদ্রতা বজায় রাখুন:

ক্যাফেইন এবং অ্যালকোহলের পরিমাণ কমিয়ে পানি পান করুন বেশি বেশি। মশলাদার আর ভাজাভুজি জাতীয় খাবারও এড়িয়ে চলুন, যেহেতু এই খাবারগুলো শরীরকে ডিহাইড্রেট (dehydrate) করে শুষ্ক করে তোলে। আদ্রতার অভাবে পুষ্টিকর উপাদান চুলের ফলিকলে পৌঁছাতে পারে না, ফলশ্রুতিতে পাকা চুলের আনাগোনা দেখা যায়।

৪.কপার সমৃদ্ধ খাবার খান:

অনেক সময় শরীরে কপারের অভাব হলে চুল পেকে যেতে পারে, যেহেতু এটা মেলানিন উৎপন্নে সাহায্য করে। তাই আপনার খাদ্য তালিকায় পালংশাক, মাংস, আনারস, ডালিম, বাদাম, গরুর কলিজা, মাশরুম-এগুলো পর্যাপ্ত পরিমাণে রাখুন। প্রতিদিন মাল্টি-ভিটামিনও খেতে পারেন, যেহেতু এর বেশির ভাগই কপার ধারণ করে।

৫. আয়োডিন মেশানো খাবার খান:

আয়োডিন হলো আরেকটি মিনারেল যেটি চুলের রঙ বজায় রাখে। কলা, গাজর, সামুদ্রিক মাছ এবং পালং শাকের মত আয়োডিন সমৃদ্ধ খাবার প্রতিদিন খাদ্য তালিকায় রাখা উচিত।

৬. অত্যাবশ্যকীয় প্রোটিন গ্রহণ করুন:

মেলানিন উৎপন্নের জন্য প্রোটিনের অবদান অনস্বীকার্য। তাই শুধু কার্বোহাইড্রেট নয় প্রোটিনের সাথেও সখ্যতা গড়ে তুলুন। যদি আপনি রুটি খান তবে তার সাথে একটি ডিম খেয়ে কার্বোহাইড্রেড আর প্রোটিনের মধ্যে সমন্বয় ঘটিয়ে নিন।

৭. পর্যাপ্ত ঘুম :

পর্যাপ্ত ঘুম চনমনে, ফুরফুরে শরীরের জন্য ওষুধের মত কাজ করে। আমার কথাটা মেনেই দেখুন আপনার সব স্ট্রেস গায়েব হয়ে যাবে। আর আগেই বলেছি স্ট্রেস ফ্রি লাইফ মানেই পাকা চুলের উঁকি ঝুকিও গায়েব।