পুজোয় দেদার ভুরিভোজের কারণে বাড়ছে ওজন? ডিম দিয়ে খান এই ক’টা খাবার, ওজন কমবে তরতরিয়ে, অল্প সময়েই পাবেন ফলাফল

0
152
লোন নিয়ে বাড়ি কেনা নাকি ভাড়া থাকা কোনটিতে বেশি লাভবান হবেন মানুষ? জানুন বিশদে
লোন নিয়ে বাড়ি কেনা নাকি ভাড়া থাকা কোনটিতে বেশি লাভবান হবেন মানুষ? জানুন বিশদে

পুজোয় দেদার ভুরিভোজের কারণে বহু মানুষেরই কিন্তু ওজন নিয়ে সমস্যার লক্ষ্য করা গেছে। আসলে বাঙালির আবেগের উৎসব দুর্গাপূজো এমনই একটি উৎসব যাতে কোন রকমের কড়া ডায়েট বাঁধ মানে না। দুর্গা পুজো হলো নিয়ম ভাঙ্গার সময়। অত্যন্ত কঠিন জীবনযাত্রায় থাকা বাঙালি মানুষরাও কিন্তু এই সময়ে পূজোর চারটে দিন আবেগে ভাসতে থাকে। আর উৎসবের মরশুমে খাওয়া দাওয়া থাকবে না এমনটা তো হতে পারে না.. তাই ওজন নিয়ে সমস্যা দেখা যাওয়াটাও খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার.. কিন্তু পুজোর পরে যখন নিজের চেহারার দিকে চোখ যায় তখন অনেকেরই কিন্তু বেশ আফসোস করতে হয়। যদি আপনিও এই সমস্যার মুখোমুখি হয়ে থাকেন তাহলে আজকের এই প্রতিবেদনটি ফলো করতে পারেন যেখানে ডিমের সঙ্গে মিলিয়ে খাওয়া বেশ কয়েকটি খাবারের কথা আমরা আপনাদের সঙ্গে শেয়ার করে নেব যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য দারুন ভূমিকা পালন করে থাকে।

যে সমস্ত খাবারগুলো ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে আপনাকে সাহায্য করবে—

গোল মরিচ:

গোলমরিচ এমন একটি বস্তু যা কোলেস্টেরল নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি ওজন কমাতেও দারুন ভাবে কাজ করে থাকে। তাই খাদ্য তালিকায় ডিমের সঙ্গে আপনারা এটিকে সহজেই রাখতে পারেন। ধরুন ডিম সেদ্ধ বা ডিমের অমলেট এর উপর একটু গোলমরিচের গুঁড়ো ছড়িয়ে দিলেন অথবা চায়ে ব্যবহার করলেন গোলমরিচ।

ক্যাপসিকাম ও বেলপরপার:

হলুদ, সবুজ এবং লাল রঙের ক্যাপসিকাম শুধু দেখতেই ভালো নয়, এর পুষ্টিগুণও অনেক। এগুলি ভিটামিন সি সমৃদ্ধ, যা মেদ ঝরাতে সাহায্য করে এবং এনার্জি বাড়ায়। তাই খাদ্য তালিকায় ক্যাপসিকাম যোগ করলে কিন্তু আপনার সুবিধা বই অসুবিধা কখনোই হবে না।

পালং শাক:

পালং শাকে ভিটামিন, খনিজ এবং অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট প্রচুর পরিমাণে থাকে। এতে ক্যালোরির পরিমাণও একেবারে কম। ফলে দ্রুত মেদ ঝরিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। তাই ডিমের অমলেট বা ভুজিয়া বানানো সময় পালং শাকও যোগ করুন। দেখবেন খেতে দুর্দান্ত লাগবে আর ওজন চট করে চলে আসবে হাতের মুঠোয়। যারা জানেন না তাদের সাথে অবশ্যই কিন্তু এই টিপস শেয়ার করতে ভুলবেন না।

Read More: Weight Loss Tips : বারংবার পেট পুজো করলেও বাড়বে না ওজন; শুধু দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসের সঙ্গে রাখুন এই ৩ পানীয়

ওটমিল:

ওটসে ক্যালোরি নেই বললেই চলে। পাশাপাশি এতে থাকা স্টার্চ হজমশক্তিও বাড়ায়। তাছাড়া, শরীরের মেদ ঝরাতে ফাইবার জাতীয় খাবার বেশি করে খাওয়া প্রয়োজন। ডিম ও ওটমিল, দুইয়েই রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ফাইবার। ডিমের সঙ্গে ওটমিল খেলে বিপাক হারও বৃদ্ধি পায়, ওজন-ও কমে। সকালের জলখাবার কম্বিনেশন আপনারা কিন্তু নিশ্চিন্তে রাখতে পারেন যাতে সারাদিন শরীর সুস্থ থাকে আর ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে অনেকটা সহায়ক হয়।

নারকেল তেল:

সাদা তেলে ডিমের অমলেট বা পোচ বানালে ক্যালোরি অনেক বাড়ে। ফলে ওজন বাড়তে থাকে। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাইলে ডিম ভাজুন নারকেল তেলে। ভিটামিন ই, অ্যান্টিঅক্সিড্যান্ট, পলিফেনল সমৃদ্ধ নারকেল তেল শরীরে মেদ ঝরিয়ে ওজন কমাতে সাহায্য করে। এই তেলে স্যাচুরেটেড ফ্যাটও থাকে না। তাই এবার থেকে নিশ্চিন্তে নারকেল তেল ব্যবহার করুন।

ডিম:

এতগুলি খাবার আমরা ডিমের সঙ্গে যোগ করার কথা বললাম তার কারণ ওজন নিয়ন্ত্রণে যে সমস্ত খাবার গুলো সব থেকে বেশি সাহায্য করে তার মধ্যে অন্যতম হলো ডিম।অনেকেই হয়তো অবাক হয়ে চিন্তা করছেন ডিম কিভাবে ওজন কমাতে সহায়ক হতে পরে। অবাক হবার কিছু নেই। ডিম হচ্ছে প্রোটিনে সমৃদ্ধ এমন একটি খাবার যা অনেকক্ষণ পর্যন্ত পেট ভরা থাকতে সাহায্য করে যার কারণে ক্ষুধা ভাব কম হয়। প্রতিদিন সকালে যদি ডিম ডায়েটে যোগ করা যায়, তাহলে আপনি সারাদিনে তুলনামূলক কম ক্যালোরি গ্রহণ করবেন যা ওজন কমাতে সহায়ক।

Read More: Weight Loss Tips: পুজোর আগেই দুর্দান্ত ফিগার পেতে চান? লেবুর জলে এই বিশেষ বীজ মিশিয়ে পান করুন!

পেস্তা বাদাম:

আপনার ডায়েট প্ল্যানে স্ন্যাকসের লিস্টে চোখ বন্ধ করে যোগ করতে পারেন এই পেস্তা বাদাম। পেস্তা বাদাম হচ্ছে পারফেক্ট স্ন্যাক, কারণ এতে আছে হেলদী ফ্যাট, প্রোটিন এবং ডায়েটারি ফাইবার (Dietary fiber) যা ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। তবে ফ্যাটের কথা শুনে ভয় পাওয়ার কিছু নেই। এই ফ্যাট হচ্ছে আনস্যাচুরেটেড ফ্যাট (Unsaturated Fat) যা ব্রেন এবং হার্টকে সুস্থ রাখে। সুতরাং সকালের জলখাবারের ডিম সিদ্ধ বা অমলেট এর সাথে নিশ্চিন্তে যোগ করুন এটি।