যেকোনো ট্রেনের এসি কোচ কেন সর্বদা মাঝবরাবর রাখা হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও!

ভারতীয় রেলওয়ে ব্যবস্থায় এমন অনেক অবাক করা নিয়ম রয়েছে যা হয়তো সাধারণ মানুষের অজানা.. লক্ষ্য করে দেখবেন যে কোন ট্রেনের ক্ষেত্রেই এসি কোচ সর্বদা মাঝখানে থাকে! এর কারণ জেনে নিন?

0
135
যেকোনো ট্রেনের এসি কোচ কেন সর্বদা মাঝবরাবর রাখা হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও!
যেকোনো ট্রেনের এসি কোচ কেন সর্বদা মাঝবরাবর রাখা হয়? কারণ জানলে অবাক হবেন আপনিও!

ভারতবর্ষের যে কোন ট্রেনেই যদি আপনারা যাতায়াত করাকালীন লক্ষ্য রাখেন তাহলে দেখতে পারবেন যে এসি কোচ সব সময় মাঝ বরাবর থাকে। তবে এর প্রকৃত কারণ কিন্তু এখনো অনেকের কাছেই অজানা। আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা এই অজানা রহস্য নিয়েই পাঠক বন্ধুদের সঙ্গে আলোচনা করতে চলেছি। যারা নিয়মিত ট্রেনে ভ্রমণ করেন বা এই ভ্রমণকে উপভোগ করেন তাদের অবশ্যই কিন্তু এ বিষয়টা জেনে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে। ভারতবর্ষের ট্রেনগুলোতে ইঞ্জিনের পর সাধারণ কোচ বসানো হয়। এরপর স্লিপার কোচ রাখা হয়। তারপরে এসি কোচ বসানো হয়। এর পরে ফের স্লিপার কোচ এবং তারপরে আবার সাধারণ বগি রাখা হয়। এর নির্দিষ্ট কোন কারণ না জানা গেলেও বিভিন্ন প্রতিবেদন বা রিপোর্টের মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে যে এসি কামরায় যাতায়াতকারী যাত্রীদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়।

কোন রকম বৈজ্ঞানিক কারণ নয়, আসলে যেহেতু ট্রেনের উভয় পাশে লাগেজ কোচ রয়েছে, তার পরে সাধারণ এবং স্লিপার কোচ রয়েছে, তাই বেশিরভাগ ভিড় ভাগ হয়ে যায় এবং তাই মাঝখানে এসি কোচে ভ্রমণকারী যাত্রীরা কম ভিড়ের মুখোমুখি হন। বিশেষ কোনো ঝামেলা ছাড়াই নির্ঝঞ্ঝাটে তারা তাদের এসি কোচে যাতায়াত করতে পারেন। যেহেতু অন্যান্য বগি গুলোর তুলনায় এসি কোচের ভাড়া বেশি তাই যাত্রীদের সুবিধা দেওয়ার জন্যই এই ব্যবস্থা করা হয়। এগুলো ছাড়াও এসি কামরায় যাতায়াতকারী ব্যক্তিদের জন্য আরও বেশ কিছু সুবিধা রয়েছে। খাবারদাবার থেকে শুরু করে অনেক ব্যবস্থাই আলাদা এখানে।

এই বিষয়টি ছাড়াও আরো একটি জিনিস রয়েছে যা লক্ষণীয় । আপনারা হয়তো অনেকেই দেখেছেন যে রেলওয়ে স্টেশনগুলির গেটগুলি স্টেশনের ঠিক মাঝখানে অবস্থিত।কোনও ট্রেন যখন স্টেশনে থামে, তখনই এসি কোচের যাত্রীরা স্টেশন থেকে বের হওয়ার প্রথম সুযোগ পান অর্থাৎ স্টেশনে যাত্রীদের ভিড় বাড়ার আগেই এসি কোচের যাত্রীদের বের হয়ে যেতে হয়।ব্রিটিশ আমলে যখন স্টিম ইঞ্জিন ছিল, তখন ইঞ্জিনের কাছে এসি বগি বসানো হতো। তবে ইঞ্জিনের শব্দে এসি ক্লাসে যাতায়াতকারী যাত্রীদের বেশ সমস্যায় পড়তে হয়।তাই এই বিষয়টি মাথায় রেখে ইঞ্জিন থেকে দূরে এসি কোচ বসানো শুরু হয়েছে। তারপর থেকে সেই রেওয়াজ এখনও আছে।যদিও রেলের তরফ থেকে এই বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। তবে রেলের বিভিন্ন কর্মকান্ডে একথা খুব ভালোভাবেই স্পষ্ট যে এসি কোচের যাত্রীদের সুবিধার্থেই কামরাগুলোকে মাঝ বরাবর রাখা হয়। যেকোনো এক্সপ্রেস থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক চালু হওয়া বন্দে ভারত সবেতেই রয়েছে একই ব্যবস্থা।

Read More: Kedarnath Yatra: সম্প্রতি রয়েছে কেদারনাথ যাওয়ার প্ল্যান? ট্রেকিংয়ের সময় যা কিছু মাথায় রাখবেন

প্রসঙ্গত উল্লেখ্য,ভারতীয় রেল (Indian railways) বিশ্বের চতুর্থ বৃহত্তম রেলওয়ে নেটওয়ার্ক। ভারতে ১৯ শতকে প্রথম ট্রেনটি চালু হয়েছিল। অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলের সময় থেকে। ভারতীয় রেলের এই নেটওয়ার্কটি প্রায় ১,১৫,০০০ কিমি এরিয়া জুড়ে বিস্তৃত রয়েছে এবং এই রেলওয়ে নেটওয়ার্কে প্রায় ৭৩৪৯ টি সেটেশন রয়েছে। এই স্টেশন গুলি থেকে প্রায় ২০০০০ এর বেশি যাত্রীবাহী ট্রেন ও ৭০০০ এর বেশি পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে।