Health Tips : রোজগার ডায়েটে রাখুন এই বিশেষ কয়েকটি সুপার ফুড, মস্তিষ্কের বিকাশ হবে দারুন।

1
95
Health Tips : রোজগার ডায়েটে রাখুন এই বিশেষ কয়েকটি সুপার ফুড, মস্তিষ্কের বিকাশ হবে দারুন।
সুপার ফুড

শারীরিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি প্রত্যেকটা মানুষেরই কিন্তু নিজেদের মানসিক স্বাস্থ্য সম্পর্কেও যথেষ্ট সচেতন হওয়া উচিত। কারণ শারীরিক এবং মানসিকভাবে সুস্থ হলেই তাকে একজন আদর্শ মানুষ বলা যেতে পারে। কিন্তু আপনারা হয়তো অনেকেই জানেন না যে ঠিক কিভাবে শারীরিক এবং মানসিকভাবে নিজেদের যত্ন নেয়া যেতে পারে! আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদনে আমরা সেই বিষয়েই বিস্তারিত আলোচনা করতে চলেছি। চলুন তাহলে সময় নষ্ট না করে শুরু করা যাক আজকের এই বিশেষ প্রতিবেদন।

আমাদের শরীরের অন্যান্য অংশের মতো, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের যত্ন নেওয়া খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আমাদের শরীর সম্পূর্ণরূপে মস্তিষ্কের উপর নির্ভর করে। মস্তিষ্ক শরীরের বিভিন্ন অংশে সংকেত পাঠায়, তবেই তারা প্রতিক্রিয়া দেখায়। আমাদের শরীরের সঠিকভাবে কাজ করার জন্য একটি সুস্থ মন খুবই গুরুত্বপূর্ণ। মন সুস্থ না থাকলে কিন্তু শারীরিক স্বাস্থ্য খারাপ হয়ে যেতে পারে। বৈজ্ঞানিক গবেষণার মাধ্যমে জানা গিয়েছে মস্তিষ্ককে সুস্থ রাখার জন্য আমাদের কিন্তু ব্যাপকভাবে শক্তির প্রয়োজন। আর এই শক্তি আমরা পাই আমাদের দৈনন্দিন গ্রহণ করা খাদ্য থেকে। তাই অবশ্যই আমাদের খাদ্যে এমন কিছু জিনিস রাখা দরকার যা আমাদেরকে শারীরিকভাবে সঠিক থাকতে সাহায্য করবে।

১) সবুজ শাকসবজি:

সবুজ শাকসবজি প্রতিদিনের খাদ্যে রাখাটা ভীষণভাবে প্রয়োজন কারণ এটা শিশু থেকে বয়স্ক সকলের জন্যই খুবই উপকারী।পালংশাক, বাঁধাকপি, ফুলকপি, ব্রকলি, এই সব ধরনের সবুজ শাকসবজি মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য ভাল। এই সবজিগুলি অনেক পুষ্টিগুণে ভরপুর। যার মধ্যে রয়েছে ব্রেন… বুস্টিং বিটা-ক্যারোটিন, ফলিক অ্যাসিড, লুটেইন এবং ভিটামিন। এই সমস্ত জিনিস গুলি খাদ্যে রাখলে মস্তিষ্কে যেমন সুন্দর বিকাশ হয় ঠিক তেমনভাবেই কিন্তু স্মৃতিশক্তি ব্যাপক উন্নত হয়ে থাকে।প্রতিদিন অন্তত এক-চতুর্থাংশ বা এক বাটি সবুজ শাকসবজি খেতে হবে।

২) বাদাম:

স্বাস্থ্যকর চর্বি এবং প্রোটিনের উৎস হিসেবে পরিচিত রয়েছে বাদাম।।আপনার খাদ্যতালিকায় সব ধরনের বাদাম যেমন আখরোট, পেস্তা, বাদাম, অন্তর্ভুক্ত করে, আপনি আপনার মস্তিষ্কের দৈনিক ডোজ পূরণ করতে পারেন। কিন্তু এই সমস্ত জিনিসের মধ্যে সবথেকে বেশি উপকারী আখরোট তাই অবশ্যই চেষ্টা করবেন এটাকে খাদ্য তালিকায় রাখার। এর মধ্যে ওমেগা ৩ ফ্যাটি এসিড থেকে শুরু করে প্রচুর এন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে যা শরীরের নানান রকম উপকারে কাজে লাগে। তাই আপনারাও যদি মানসিক বিকাশ এবং স্মৃতিশক্তি ভালো করতে চান সেক্ষেত্রে বাদামের তুলনা হবে না। ২০২১ সালের একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে, প্রাপ্তবয়স্করা যারা প্রতিদিন ১৫ থেকে ৩০ গ্রাম ড্রাই ফ্রুট খান তাদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং স্মৃতিশক্তি বাকিদের থেকে অনেকটাই ভালো।

Read More: Health Tips : সুস্বাস্থ্য নিয়ে নো টেনশন! জেনে নিন কিছু সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যের (Superfood) তালিকা

৩) কফি ও কালো চা:

আমাদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য কিন্তু চা এবং কফির মত ক্যাফেইননযুক্ত পানীয় খুবই ভালো। এর মধ্যে অনেক শক্তিশালী আন্টি অক্সিডেন্ট রয়েছে। মানসিক চাপ থেকে শুরু করে উঠবেগ সবকিছুই দূর করতে এই ধরনের পানীয় গুলি ব্যাপকভাবে সাহায্য করে থাকে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য প্রতিদিন মোটামুটি চার কাপ কফি গ্রহণযোগ্য। তাই এবার থেকে কোন মানসিক সমস্যা হলেই সাহায্য নিন কফির।

৪) টমেটো:

আপনি যদি নিজের শিশুর মানসিক বিকাশ ঘটাতে চান তাহলে টমেটো একটি অত্যন্ত উল্লেখযোগ্য খাবার। টমেটোর মধ্যে লাইকোপিন রয়েছে যা একটি প্রাকৃতিক রঙ্গক।। এই শক্তিশালী ক্যারোটিনয়েডগুলি অ্যালজাইমার্স এবং পারকিনসন রোগের মতো স্মৃতি-সম্পর্কিত রোগগুলিকে দূরে রাখতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে যে প্রতিদিন নয় থেকে ২১ মিলিগ্রাম লাইকোপিন শরীরের জন্য অত্যন্ত উপকারী হতে পারে।

৫) গোটা শস্য :

আমাদের এই সুপার ফুড এর তালিকায় রয়েছে বিভিন্ন গোটা শস্য যেমন গম, ওটমিল, বার্লি এবং ব্রাউন রাইস ইত্যাদি সুষম খাদ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। হার্টের জন্যেও এগুলি অত্যন্ত উপকারী। তবে খুব কম মানুষই জানেন যে, অনেক অনেক গোটা শস্য ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। এটি মস্তিষ্কের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। যা, স্নায়ুতন্ত্রের ক্ষতি প্রতিরোধ করতে সাহায্য করে। প্রত্যেক ব্যক্তির প্রতিদিন কমপক্ষে ৪৮ গ্রাম গোটা শস্য খাওয়া উচিত।

Read More: Health Tips : দিন দিন ভারতে বাড়ছে হার্ট অ্যাটাকের পরিমাণ, জেনে নিন কি বলছেন বিশেষজ্ঞরা!

৬) ডার্ক চকোলেট

মানসিক বিকাশ এবং স্মৃতিশক্তি মজবুত করার জন্য একটি মজাদার খাবারও এই তালিকায় আমরা যোগ করেছি যা হলো ডার্ক চকলেট।এটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, ফ্ল্যাভোনয়েড ও ক্যাফেইন সমৃদ্ধ যা, অন্যান্য ব্রেন বুস্টার খাবারের চেয়ে ভাল। ৩০ থেকে ৬০ গ্রাম ডার্ক চকোলেট সপ্তাহে দুই থেকে তিনবার মস্তিষ্কের কার্যকারিতা উন্নত করতে সাহায্য করতে পারে।

৭) ডিম:

এবার আমরা চলে আসব আমাদের একটি অতি পরিচিত খাবার ডিমের কথায়। মস্তিষ্কের বিকাশের জন্য ডিম কিন্তু অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।প্রোটিন দেওয়ার পাশাপাশি, ডিম অনেক ধরনের বি ভিটামিন যেমন B6, B12 এবং B9 (ফলিক অ্যাসিড) সমৃদ্ধ ।বেশিরভাগ মানুষের জন্য দিনে একটি ডিমই যথেষ্ট।

৮) হলুদ:

এটি মস্তিষ্কের জন্য একটি সুপার ফুড। আসলে, হলুদে কারকিউমিন নামক রাসায়নিক যৌগ পাওয়া যায় ।যা, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য নানাভাবে উপকার করে। মানুষের মধ্যে অ্যালজাইমার্সের ঝুঁকি রোধ করে।হলুদ এমন একটি মশলা যা আমাদের খাবারে প্রতিদিন ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসকের পরামর্শে কারকিউমিন সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করতে পারেন।

Read More: Health Tips : সুস্বাস্থ্য নিয়ে নো টেনশন! জেনে নিন কিছু সুষম এবং পুষ্টিকর খাদ্যের (Superfood) তালিকা

৯) বীজ:

কুমড়ো, সূর্যমুখী, তরমুজ, চিয়া, ফ্ল্যাক্সসিড সহ অনেক ধরণের বীজ শুকনো ফলের মতোই অনেক পুষ্টিতে সমৃদ্ধ।সূর্যমুখী বীজ বিশেষ করে ভিটামিন ই সমৃদ্ধ। যা, মস্তিষ্কের স্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। কুমড়োর বীজও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট ও তামা, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম এবং … এবং জিঙ্কের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজগুলির শক্তিশালী উৎস। প্রতিটি প্রাপ্তবয়স্কের সপ্তাহে তিন বা চারবার প্রায় এক চতুর্থাংশ কাপ বীজ খাওয়া উচিত। জলখাবারে এগুলি রাখতে পারেন।